মমো ইন, বগুড়ায় একদিন

 

মমো ইন, বগুড়ায় একদিন

যমুনা সেতু পার হওয়ার সময় দেখলাম ডান পাশ দিয়ে ট্রেন যাচ্ছিল। এত স্লো যাচ্ছিল ট্রেন। সেই তুলনায় আমরা খুব দ্রুতই পার হলাম। মাঝে দাঁড়িয়ে চা খেলাম। এরপর আরো কিছুক্ষণ ড্রাইভ করে দুপুরের খাবার খেলাম। মমো ইনে পৌছালাম ৫টার দিকে। তখন আর হেলিকপ্টার রাইড দেওয়া সম্ভব না। বলল পরের দিন সাড়ে দশটায় সম্ভব হবে। সেই আশায় আমরা মমো ইনেই থেকে গেলাম।

মমো ইনে কাপল রুম হচ্ছে প্রায় বারো হাজার টাকার মত। সেখান থেকে বাংলালিংক প্রিয়জন গ্রাহক হিসেবে ৪০% ডিসকাউন্ট পেয়েছি। তখন প্রায় 7300 টাকা লেগেছিল। ফাইভ স্টার হোটেল গুলোতে স্টাফরা গেস্টদের সাথে কেমন জানি মনিবের মত করে আচরণ করে। ব্যপারটা আমার কাছে কেমন জানি অস্বস্থি লাগে। রুমে ঢুকে ফ্রেস হয়ে চা খেলাম। এরপর ৭টার দিকে সুইমিং পুলে গিয়ে কিছুক্ষণ সাঁতার কাটলাম। রুমে এসে চেঞ্জ করে হাঁটতে বের হলাম। মমো ইনের চারপাশেই হাঁটার জন্য প্রচুর জায়গা। পুরো এরিয়াটা যথেষ্ট সুন্দর। দিনের বেলায় কিছু রাইডও দেওয়া যেত। ভাবলাম পরের দিন দেওয়া যাবে।


ড্রোন ছিল সাথে। বের করে কিছু ছবি তুললাম। ড্রোন ল্যান্ড করার পর দেখি সিকিউরিটি ও আরো দুই তিন জন আমার দিকে দ্রুত পায়ে আসছে। এসেই রাগি সুরে জিজ্ঞেস করল ড্রোন উড়াচ্ছি যে অনুমতি নিয়েছি কিনা? আমি বললাম আমি এখানের গেস্ট। সাথে সাথে সুর পাল্টে গেল। বলল স্যার, ড্রোন উড়াতে হলে অনুমতি নিতে হয়। রিসিপশনে যোগাযোগ করলে লিখিত একটা অনুমতি দিয়ে দিবে। আমি বললাম আচ্ছা। যদিও আমার ফুটেজ নেওয়া শেষ। বুঝা হয়ে গেলো বহিরাগত কেউ এখানে আসলে তাদের সাথে কেমন আচরণ করা হয়। যদিও সবার জন্যই উন্মুক্ত। বিকেলে প্রচুর মানুষ দেখলাম। পার্কের মত সবাই ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ভালোই লাগছিল।


এখানে বারবিকিউ করা হচ্ছিল। আমরা বসে বারবিকিউ খেয়ে নিলাম। সাইদ আমাকে জানালো বগুড়ায় কোথায় কি ভালো। যেমন মমো ইনের পাশেই ওদের পার্কে মটকা চা পাওয়া যায়। ঐটা ট্রাই করতে পারি জানালো। চিকেন বারবিকিউ খেয়ে মটকা চা খেতে গেলাম। ১০টা বাজে তখন। মটকা চা শেষ হয়ে গিয়েছিল। তারা গরম করে রাখছিল চা। পরে তাই খেয়ে চলে আসলাম।

আরো কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। ৯টার দিকে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম বৃষ্টি। নন স্টপ! নাস্তা করে নিলাম। এরপরও বৃষ্টি থামার কোন লক্ষণ নেই। আগের দিন বলল সাড়ে দশটার দিকে হেলিকপ্টার রাইড দিতে পারব। আকাশের যে অবস্থা, মনে হয় না তা সম্ভব হবে। আমরা রুমে গিয়ে রেডি হয়ে বের হয়ে পড়লাম। রওনা দিলাম ঢাকার দিকে। পথে সাত রাস্তার মোড় থেকে এশিয়া সুইটস থেকে দই কিনে নিলাম। এদের দই নাকি ভালো।

বৃষ্টিতে ড্রাইভ করতে ভালোই লাগছিল। পথে এরিস্ট্রোক্যাট নামে একটা রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেলাম। ওদের পরিবেশ, স্টাফ, খাবার, সব কিছুই ভালো ছিল। খাওয়া দাওয়া করে আবারও বৃষ্টির মধ্যে ড্রাইভ। একটুও কমছিল না। গাজীপুর টঙ্গি রোডে কি যে ভয়াবহ জ্যামে পড়েছি। রোডের কন্ডিশন ভয়াবহর রকমের খারাপ। এই রোডে যারা নিয়মিত যাতায়াত করে, তাদের কথা ভেবে কি যে খারাপ লাগছে। এই জ্যাম ঠেলে বাসায় রাত ৮টার দিকে এসে পৌঁছাই। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে সুন্দর মত বাসায় ফিরতে পেরেছি।






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ