ভোলাগঞ্জ
সিলেটের একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। এটি ঢালা নদীর তীরে অবস্থিত। ভোলাগঞ্জের ঢালা নদী দেশের সর্ববৃহত্তম পাথর কোয়ারির অঞ্চল। এখান থেকে ছাতক পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার এলাকা
নিয়ে দাঁড়িয়ে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে বা রজ্জুপথ।
অবস্থান
সিলেটের
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চমৎকার একটি গ্রাম ভোলাগঞ্জ। রোপওয়ে, পাথর কেয়ারী, নদী আর পাহাড়ে মিলে
এই ভোলাগঞ্জ। সিলেট শহর থেকে ভোলাগঞ্জ এর দূরত্ব ৩৩
কিলোমিটার। ধলাই নদী বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করে দু’ভাগে বিভক্ত
হয়ে প্লান্টের চারপাশ ঘুরে আবার একীভূত হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা
সদরের কাছে ধলাই নদী মিলিত হয়েছে পিয়াইন নদীর সাথে। একশ একর আয়তনের রোপওয়েটি তাই পরিণত হয়েছে বিশেষ আকর্ষণীয় স্থানে।
ইতিহাস
ভারতের
তৎকালীন আসাম প্রদেশের রাজধানী শিলংয়ে একসময় লোকজন এ রাস্তা দিয়েই
যাতায়াত করতেন। কালের পরিক্রমায় এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রজ্জুপথ। নাম ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে। দেশের সর্ববৃহৎ ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির অবস্থানও এ এলাকায়। রোপওয়ে,
পাথর কোয়ারি আর পাহাড়ি মনোলোভা
দৃশ্য অবলোকনে প্রতিদিনই পর্যটকদের আনাগোনা চলে।
বর্ণনা
পৃথিবীর
সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল এলাকা চেরাপুঞ্জির অবস্থান ভারতের পাহাড়ী রাজ্য মেঘালয়ে। ধলাই নদীর উজানে এ রাজ্যের অবস্থান।
খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড় ঘেরা এ রাজ্যের দৃশ্য
বড়ই মনোরম ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এলাকায় অবস্থান করে পাহাড় টিলার মনোরম দৃশ্যাবলি অবলোকন করা যায়। বর্ষাকালে চেরাপুঞ্জির বৃষ্টির পানি ধলাই নদীতে পাহাড়ী ঢলের সৃষ্টি করে। গ্রীষ্মকালে অনেকে ধলাই নদীকে মরা নদী হিসাবে অভিহিত করলেও বর্ষাকালে নদীটি ফুলে ফেঁপে উঠে। ধলাই নদীর
মনোলোভা রূপ, সবুজ পাহাড় বন্দী এলাকা জুড়ে অজস্র সাদা পাথর, আকাশের নীল ছায়া রেখে যায় পাথরে জমে থাকা স্ফটিক জলে। দূরের পাহাড়গুলোর উপর মেঘের ছড়াছড়ি, সাথে একটা দুটো ঝর্ণার গড়িয়ে পড়া। নদীর টলমলে হাঁটু পানির তলায় বালুর গালিচা। চিক চিক করা রূপালী বালু আর ছোট বড়
সাদা অসংখ্য পাথর মিলে এ যেন এক
পাথরের রাজ্য। প্রকৃতির খেয়ালে গড়া নিখুঁত ছবির মত সুন্দর এই
জায়গাটির নাম ভোলাগঞ্জ।




0 মন্তব্যসমূহ